মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর এর বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি বাণিজ্য নাটক মঞ্চস্থ হবার পর থেকে একের পর এক মুখোশধারী কালো বিড়াল দের গল্প বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে টাকা পয়সার বিনিময়ে অথবা তদবিরের মাধ্যমে বদলি ঠেকাতে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সময়োপযোগী উদ্যোগ (লটারির মাধ্যমে বদলি) কে কাজে লাগিয়ে নানা অনিয়মের মাধ্যমে গ্রেডিং শীট ম্যানুপুলেশন,(কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা দক্ষতা, সততা ও এসি আর,বিবেচনার পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলোতে আর্থিক যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন এর মাধ্যমে গুটিকয়েক ব্যক্তি ১২০ কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবং এই বদলি বাণিজ্য নিয়ে সমগ্র গণপূর্ত অধিদপ্তরের ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই গুটিকয়েক ব্যক্তির ব্যক্তিগত লোভ-লালসার কারণে মন্ত্রী মহোদয়ের মহতি উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এই গুটিকয়েক ব্যক্তি আবার একসঙ্গে পূজার প্রমদ ভ্রমনে গিয়েছিলেন চুপিসারে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, ১)মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী, (ওরফে মিয়া ভাই),প্রধান প্রকৌশলী, ২)সরোয়ার জাহান (বিপ্লব) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন), ৩) ড.আবু নাসের চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল ২, ৪)মোঃ আফসার উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, কুমিল্লা গণপূর্ত সার্কেল ৫)মোঃ বদরুল আলম খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাবেক গণপূর্ত সার্কেল ১. ৬)গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নাটের গুরু, সরোয়ার আলমের মা মারা যাওয়ার কারণে তিনি এই প্রমোদ ভ্রমণে যেতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান বিপ্লব এর প্ররোচনায় এবং অনুরোধে মন্ত্রণালয়ের সরোয়ার আলম এই গ্রুপে জয়েন্ট করেন। অক্টোবর মাসের ২০ তারিখে তারা কুমিল্লা যান। এবং ওইদিনই চট্টগ্রামে চলে যান। চট্টগ্রামে গিয়ে তারা বেস্ট ওয়েস্টার্ন ইন হোটেলে রাত্রি যাপন করেন।
চিটাগাং থেকে ২১ তারিখে তারা চলে যায় সকলে মিলে কক্সবাজার। বিশেষভাবে উল্লেখ্য এখানে কোন সরকারি প্রটোকল তারা কেউ ব্যবহার করেনি। চিটাগাংয়ের তারা ডেলটা ইঞ্জিনিয়ার্স নামক কোম্পানির দেওয়া আতিথিয়তা গ্রহন করে। এবং তাদের দেওয়া প্রাডো গাড়িতে সমগ্র চিটাগাং চষে বেড়ায়। অভিযোগ রয়েছে চিটাগাং- কক্সবাজারের সকল বড় কাজগুলা এই ডেল্টা ইঞ্জিনিয়ারস নামক কোম্পানি করে থাকে। এই কোম্পানির ক্ষেত্রে কোন রকম বাছ বিচার বা যোগ্যতা কোন কিছুই বিবেচনা করা হয় না। চিটাগাং কক্সবাজারের সকল ব্যবসায়ী, এই ডেলটা ইঞ্জিনিয়ারস নামক কোম্পানির করা বিগত কাজগুলা এবং কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া গুলা তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। ২১, ২২, ২৩ তারিখ পর্যন্ত তারা কক্সবাজারে ডেলটা ইঞ্জিনিয়ারস এর আতিথিয়তা গ্রহন করেন। কক্সবাজারে তারা হোটেল রামাদায় রাত্রি জাপন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লা টু কক্সবাজার তাদেরকে সুন্দরী রমনীর সান্নিধ্য এর ব্যবস্থা করে দিয়েছে ডেলটা ইঞ্জিনিয়ার্স নামক কোম্পানি। অভিযোগ রয়েছে এই রমণীদের সান্নিধ্য পাবার জন্যই তারা কেউ সরকারি কোন প্রোটোকল ব্যবহার করেননি। অভিযোগ রয়েছে রমনীদের সান্নিধ্য কাটিয়ে ২১ তারিখ বিকালে এই সিন্ডিকেটের সকলের স্ত্রীদেরকে বিমানে করে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং এর নেতৃত্ব ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান। তিনি অনেক আগে থেকেই বদ স্বভাবের বদরুল নামে পরিচিত। চিটাগাং এবং কক্সবাজারে ড.আবু নাসের চৌধুরীর নামে হোটেল বুকিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এই নাসের চৌধুরীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন বগুড়ায় থাকাকালীন সে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বগুড়ায় ভাড়া বাসায় সে বান্ধবীকে রেখে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মূলত এই সিন্ডিকেট ই গণপূর্ত অধিদপ্তরকে বর্তমান সময়ে লুটেপুটে খাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার বিগত ২৭ তারিখে জনৈক্ হীরা নামক এক ব্যক্তি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এই নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলির কার্যক্রম নিয়ে রিট করেছেন, পিটিশন নাম্বার ১৫১৩১/২০২৬ বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এভাবেই একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে কার্যত অর্থে অচল বানিয়ে রেখেছেন এই সিন্ডিকেট বলে অভিযোগ রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সকলের একটাই দাবি এই সিন্ডিকেটের সকল সদস্য,ঢাকার লোভনীয় জায়গায় যে সকল নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি নিয়েছেন,তাদের ও তাদের পরিবারের সকলের ব্যাংক হিসাব,এফ, ডি, আর সহ সকল কিছু দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করা হোক। আর তাহলেই বেরিয়ে আসবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কালো বিড়ালদের গল্প।
Leave a Reply