রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, উৎসব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে এবং সব ধরনের ভেদরেখা অতিক্রম করে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু উৎসব সবার। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য। আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার শুভ উদ্বোধনে অংশ নিতে পারা আনন্দের বিষয়। আগুন যেমন অনেক কিছুকে পরিশুদ্ধ করে, তেমনি তা মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধতারও প্রতীক। এ প্রসঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রদীপের আলো ও উষ্ণতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে মানুষের মধ্যকার ক্লেদ, গ্লানি ও সংকীর্ণতা দূর করে মানবিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একত্রিত হওয়া সম্প্রীতিরই বহিঃপ্রকাশ। এ উৎসবের আনন্দে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক সম্মান, উদারতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায়।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাস আগে থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি না হয়। তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের প্রয়োজনীয়তা, পরিকল্পনা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, মন্দির এমন একটি স্থান, যেখানে পুরোহিত ও ভক্তরা দেবতার উদ্দেশে মন্ত্র উচ্চারণ করেন এবং নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন। মন্দিরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ না হলে ভক্তদের প্রার্থনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে, এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি ও সরকারের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপ এবং মন্দিরগুলোর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রশাসনও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
তিনি বলেন, এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, নিজের বাড়ির পাশে দুর্গাপূজার মেলা বসত। সেই মেলাকে ঘিরে রঙিন বেলুন, খেলনা ও মিষ্টান্নের প্রতি শিশুদের আকর্ষণ ছিল। দুর্গাপূজার সময়টির জন্য তারা সারা বছর অপেক্ষা করতেন। তিনি বলেন, শুধু দুর্গাপূজা নয়, যেকোনো উৎসবই সাম্প্রদায়িক ভেদরেখা অতিক্রম করে মানুষকে কাছে আনে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করে।
Leave a Reply