1. admin@thedailyagnikontho.com : admin :
আমরা ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি উদ্বোধনের চেষ্টা করছি: বেবিচক চেয়ারম্যান - দৈনিক অগ্নিকন্ঠ

শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ :
প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ ক্রাউন প্রিন্স সালমানের গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিতের দাবি জানালে সরকার বলছে হঠকারিতা: নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই দেশের মানুষের ঐক্যের ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী বিগত ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তহীন পথ চলছে সরকার: মাহদী আমিন হারানো বিজ্ঞপ্তি সরকারি দপ্তর-সংস্থায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালু করা হবে: প্রতিমন্ত্রী কুষ্টিয়া এলজিইডিতে উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করতে তৎপরতা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানে উন্নতমানের এক লিটার পেট্রোল বিক্রি হবে প্রায় ৯ লাখ রিয়ালে
আমরা ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি উদ্বোধনের চেষ্টা করছি: বেবিচক চেয়ারম্যান

আমরা ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি উদ্বোধনের চেষ্টা করছি: বেবিচক চেয়ারম্যান

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার জন্য আগামী আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। আজ ঢাকায় বেবিচক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি উদ্বোধনের চেষ্টা করছি। এর আগে ৩১ জুলাই জাপানি কনসোর্টিয়াম তাদের প্রস্তাব জমা দেবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘চুক্তি সই হওয়ার পর পরবর্তী সময়সূচি স্পষ্ট হবে। তবে চুক্তিটি আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, অবশিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা ও পরিচালনাগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করে আগামী ডিসেম্বরে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত টার্মিনালটি উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি জানান, উদ্বোধনের আগে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ। সরকার জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎস করপোরেশন এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশনকে নিয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে টার্মিনালটি পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করছে। চলতি বছরের শুরুতে জাপানি পক্ষ সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর সেবা ফি, পরিচালন নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে উভয় পক্ষের মতপার্থক্য কমে আসায় আলোচনা নতুন গতি পায়। ৯৯ শতাংশের বেশি নির্মাণকাজ শেষ হলেও ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন না হওয়ায় তৃতীয় টার্মিনাল এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।

প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের অর্থায়নের বড় অংশ দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের টার্মিনালটি বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত হয়েছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, টার্মিনালটি চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীজট কমবে, সেবার মান উন্নত হবে এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। বেবিচকের আয়োজনে ‘সিভিল এভিয়েশন অ্যান্ড এয়ার ট্রাফিক অপারেশন’ শীর্ষক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিক এসব কথা বলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, এয়ারসাইড ও ল্যান্ডসাইড কার্যক্রম, বিমান নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা, এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত ও কারিগরি খাত, যা সরাসরি জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই এ খাতে নির্ভুল, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘বিমান চলাচল বিষয়ক সঠিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান এবং নির্ভুল তথ্যের কোনো বিকল্প নেই।’ সাংবাদিকদের বিমান চলাচল, নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় সম্পর্কে ধারণা বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। ড্রোন পরিচালনা প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বিশেষ করে বিমানবন্দরসংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি ড্রোন পরিচালনাকারীদের সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান ভালোভাবে জেনে তা মেনে চলার আহ্বান জানান।

কারিগরি অধিবেশনে বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বেবিচকের দায়িত্ব, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, এয়ারসাইড ও ল্যান্ডসাইড অপারেশন, যাত্রীসেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন। তিনি নিরাপদ ও দক্ষ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইকাওর স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রেকমেন্ডেড প্র্যাকটিসেস (এসএআরপি) অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি হজযাত্রীদের সুবিধার্থে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রা, নিরাপত্তা ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি মওকুফ, জমজমের পানি বিতরণ, নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থান, নিরাপদ সুপেয় পানি, উন্নত শৌচাগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ট্রলি, চেয়ার, সারিব্যবস্থাপনা, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হজযাত্রীদের জন্য আরও নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা। বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম পৃথক উপস্থাপনায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি), উড়োজাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, এয়ার ট্রাফিক ফ্লো ম্যানেজমেন্ট (এটিএফএম), যোগাযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থা, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস), বিমানবন্দরের আলোকব্যবস্থা, অবস্ট্যাকল লিমিটেশন সারফেস (ওএলএস), এয়ারফিল্ড ওরিয়েন্টেশন এবং উড্ডয়নকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2025 thedailyagnikontho.com