শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) পরিচালক (প্রশাসন) মো. জাকির হোসেনের পদত্যাগ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বুধবার দুপুরে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে পিআইবি চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ ঘুরে পিআইবি চত্বরে এসে শেষ হয়। এ বিক্ষোভ শেষে বক্তব্য রাখেন দীর্ঘদিন বৈষম্যের শিকার প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা পিআইবির অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতি বঞ্চিত উল্লেখ করে সুবিধাবাদী জাকিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণ চান। জাকির হোসেনের পদত্যাগ কিংবা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
পিআইবির রিসার্চ অফিসার শেখ মজলিশ ফুয়াদ বলেন, ‘সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে জন্য নিয়োজিত পিআইবির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আর ব্যক্তিস্বার্থে পরিচালিত হতে দেওয়া যায় না। যারা এই কর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের অপসারণ কিংবা পদত্যাগ চায় সকল কর্মকর্তা – কর্মচারী।’ শেখ মজলিশ ফুয়াদ আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিকে জাকিরসহ যারা অকার্যকর করে গেছে তাদের বিচারের আওতায়ও আনতে হবে। পিআইবির মহাপরিচালক নিয়োগ হওয়ার নতুন উদ্যমে একে ঢেলে সাজাতে হবে এবং সংস্কার করতে হবে। এছাড়া দীর্ঘদিন অনিয়মের কারণে পদোন্নতি বঞ্চিতদের পদোন্নতি দিয়ে বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হবে।’
পিআইবির প্রশিক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বি বলেন, ‘পিআইবিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা জাকিরের পদত্যাগ ছাড়া কেউ কাজে যোগ দেবে না। জাফর ওয়াজেদ চলে গেছেন, এখন তার সাগরেদ জাকিরকেও চলে যেতে হবে। জাকির নিজের স্বার্থ হাসিলে সব অন্যায় অপকর্ম করেছে, পিআইবিকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।’ পিআইবি পরিচালক জাকির সম্পর্কে পারভীন সুলতানা রাব্বি বলেন, ‘জাকির মূলত নির্বাহী অফিসার। তিনি যখন যে ডিজি আসে তাকে ম্যানেজ করে নিজেই সুবিধা নেন এবং অন্যদের অন্যায়ভাবে শাস্তি দিয়ে থাকেন। তাদের কারণে পিআইবি আইন দিয়ে পরিচালিত হয়নি। বোর্ডের অনুমতিতে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ডিজিদের ব্যবহার করে অবৈধভাবে তিনটি পদোন্নতি ও ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।’
পিআইবির প্রশিক্ষক চলতি দায়িত্ব মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘জাকির নিজের স্বার্থ হাসিলে সিদ্ধহস্ত। তার হাতে অপমানিত হননি এমন লোক পিআইবিতে পাওয়া দুষ্কর। বারবার রং বদলানো জাকিরের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।’ পিআইবির হিসাব সহকারী মিজানুর রহমান সরকার বলেন, ‘জাকির অসত্যভাষী এবং দুর্নীতিবাজ। মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিভিন্ন কৌশল ও ছলনার আশ্রয় নিতেন। সরকারি গাড়ি নিজে ও নিজের পরিবারের জন্য ব্যবহার করতেন। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া-আসা ও মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় অফিসের ভিআইপি গাড়ি (ক্যারিবয়) ব্যবহার করা ছিল তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এমনকি মহাপরিচালকের গাড়ি পর্যন্ত তিনি ব্যবহার করতেন। এছাড়া নিয়ম বর্হিভূতভাবে মেয়ের বিয়ের সময় ও ছেলের সুন্নতে খাৎনার সময় অবৈধভাবে পিআইবির ডরমেটরি ব্যবহার করে আত্মীয়-স্বজন রেখেছিলেন।’
জাকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মিজানুর রহমান সরকার বলেন বলেন, ‘প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা রাষ্ট্রয়াত্ত্ব ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে বেসরকারি ব্যাংকে রেখে লভ্যাংশ জাফর ওয়াজেদ, মো. জাকির হোসেন ও সহকারী হিসাব রক্ষক আলী হোসেন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। তার কোনো হিসাব পিআইবির কোনো কর্মকর্তা–কর্মচারীকে আজও দেওয়া হয়নি। হিসাব চাওয়ার কারণে এর প্রতিবাদকারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে ও চাকুরিচ্যুতির হুমকি দেওয়া হতো। জাফর-জাকির-আলী হোসেন গং কোনো বোর্ড মিটিং না করে অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির অনেক টাকা লুটপাট করেছে। এসব কাজে সহকারী হিসাব রক্ষক আলী হোসেন পরিচালক (প্রশাসন) চলতি দায়িত্ব জাকিরকে সহায়তা ও সুবিধা দেওয়ায় আলী হোসেনকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও নিম্নতম ১৩তম গ্রেডের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। যা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় পড়ে না।’
বিক্ষোভ মিছিলে পিআইবির গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. কামরুল হক, সহকারী সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান ও শাহেলা আক্তার, সহকারী অধ্যাপক পংকজ কর্মকার, গবেষক কামরুন নাহার, মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব মোহাম্মদ আফতাব উদ্দীন ভূঁঞাসহ পিআইবির সকল কর্মকর্তা–কর্মচারী অংশ নেন। উল্লেখ্য, পিআইবির প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার সঙ্গে জড়িত জাফর ও জাকির গংয়ের বিরুদ্ধে গত ৭ আগস্ট থেকে প্রতিদিন এই বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি চলছে। আন্দোলনের মুখে গত ১৩ আগস্ট পিআইবির মহাপরিচালক (ডিজি) জাফর ওয়াজেদ পদত্যাগ করেন। আন্দোলনকারীরা পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) মো. জাকির হোসেনকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply