শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর অভিবাসীদের ওপর আরও বেশি কঠোর নীতি নিয়েছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীরা মানসিক ও আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট পাস হয়। এতে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। পরে ধাপে ধাপে অভিবাসন আইন প্রয়োগে বহুমুখী কৌশল বেছে নেন ট্রাম্প। অভিবাসীদের চাপে রাখতে ট্রাম্প আইনটির মাধ্যমে ‘রেমিট্যান্স-কর’ আরোপের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন।
অভিবাসন আইন প্রয়োগে ট্রাম্প এখন নতুন নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। সর্বশেষ সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত স্থগিতও করা হয়েছে। ইরানসহ ১৯ দেশকে কালো তালিকায় ফেলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তার নির্বাচন প্রতিশ্রুতি পূরণে ‘বৃহত্তম অভ্যন্তরীন নির্বাসন অভিযান’ শুরু করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম। এর অংশ হিসেবে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে অভিবাসীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যগতভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির সমালোচনা করেছেন আইন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণাত্মক কৌশল অভিবাসীদের যথাযথ সুরক্ষা প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ণ করেছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্প তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলেও তাদের মত। অভিবাসন সংক্রান্ত বড় ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯ দেশকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ট্রাম্প দেশগুলোর অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে অভিবাসীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এখন উদ্বেগজনক দেশ। দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, মিয়ানমার, শাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা। গত ২৬ নভেম্বর রহমানউল্লাহ লাকানওয়াল নামে একজন আফগান নাগরিক ওয়াশিংটনে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করে। এর পরই ট্রাম্প প্রশাসন ওই ১৯ দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করে।
Leave a Reply