1. admin@thedailyagnikontho.com : admin :
জুলাই যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই গণ্য করা হবে: তারেক রহমান - দৈনিক অগ্নিকন্ঠ

শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ :
প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ ক্রাউন প্রিন্স সালমানের গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিতের দাবি জানালে সরকার বলছে হঠকারিতা: নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই দেশের মানুষের ঐক্যের ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী বিগত ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তহীন পথ চলছে সরকার: মাহদী আমিন হারানো বিজ্ঞপ্তি সরকারি দপ্তর-সংস্থায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালু করা হবে: প্রতিমন্ত্রী কুষ্টিয়া এলজিইডিতে উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করতে তৎপরতা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানে উন্নতমানের এক লিটার পেট্রোল বিক্রি হবে প্রায় ৯ লাখ রিয়ালে
জুলাই যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই গণ্য করা হবে: তারেক রহমান

জুলাই যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই গণ্য করা হবে: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামীতে জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই মন্ত্রণালয় থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের জন্য আলাদা বিভাগ গঠন করা হবে। কারণ জুলাই যোদ্ধারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই গণ্য। তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং জীবন দেন। ঠিক একইভাবে ২৪-এর যোদ্ধারাও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে। তাকেই আবার রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে। সেজন্যই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা আরেকটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করব, যাদের দায়িত্ব হবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন অপহরণের শিকার হয়েছে। অগণিত পরিবার সব হারিয়ে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। ৫’শ মানুষ আছে যাদের কারো এক চোখ অথবা কারো দু’চোখই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পঙ্গু হয়েছেন অনেকেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এটাকে আমরা এক বাক্যে স্রেফ একটি গণহত্যা বলতে পারি।’ জুলাই যোদ্ধাদের সাহসী ভূমিকার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুথানে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের সাহসী ভূমিকার কারণেই ফ্যাসিবাদী চক্র শুধুমাত্র রাষ্ট্র ক্ষমতা নয়, এই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

অথচ ফ্যাসিস্টদের গণহত্যা থেকে ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপও সেদিন রেহাই পায়নি।’ তিনি বলেন, ‘সেই গণঅভ্যুত্থানে দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় গণতন্ত্রকামী প্রত্যেক শ্রেণী-পেশার মানুষ সেদিন রাজপথে নেমে এসেছিল। সেদিনকার যত ছবি ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে তার প্রত্যেকটি ছবিই এই কথার সাক্ষ্য দেয়। এ কারনেই ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান কোন ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়। যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে পরিণত করতে চায় তাদের সম্পর্কে সবাইকে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে।’ ২০২৪ সালকে সুসংহত করতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলনে হতাহত পরিবারের স্বজনদের কষ্ট কোন কিছু দিয়ে মোচন করা সম্ভব নয়।

তবে আমরা গণঅভ্যুত্থানে আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারি।’ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও হতাহত হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্য ছিল, একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আর এজন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তারেক রহমান বলেন, ‘নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হলে এভাবেই শোক সমাবেশ আর শোকগাঁথা চলতে থাকবে। আর কোন শোক সমাবেশ বা শোকগাঁথা নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের কষ্টের কথা মন দিয়ে শোনেন। এক পর্যায়ে তিনিও আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের কান্না আর আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে সভাস্থল। এসময় তারেক রহমান চব্বিশের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও সহ-দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2025 thedailyagnikontho.com