সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন
মোক্তার আহমেদ : পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার সাংবাদিক ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে মাহে রমাদানের তাৎপর্য ও মানবাধিকারের প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতা শীর্ষক আলোচনা সভা এবং রোজাদারের মাঝে ইফতার বিতরণ, দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠি। পবিত্র মাহে রমাদানের হচ্ছে তাৎপর্য হলো রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস, যাতে আল-কোরআন নাজিল হয়েছে এবং রোজা পালন ফরজ করা হয়েছে । এ মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং শবে কদরসহ প্রতিটি ফরজ ইবাদতে ৭০ গুণ সওয়াব পাওয়া যায় । এটি আত্মশুদ্ধি, ধৈর্যের শিক্ষা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির উপযুক্ত সময়। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার সাংবাদিক ফাউন্ডেশন।
১৫ মার্চ ২০২৬ রোজ রবিবার বিকাল ৪ ঘটিকায় রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার মহাসচিব মোক্তার আহমেদ। বিকেল থেকেই কার্যালয় প্রাঙ্গণে রোজাদারদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন ও ধর্মীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। উক্ত মহতী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মোক্তার আহমেদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “রমজান মাস হলো সংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এই মাস কেবল রোজা রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অসহায়, দুঃস্থ, গরীব, এতিম ও রোজাদার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য। সমাজের সামর্থ্যবানদের উচিত মানবকল্যাণে এগিয়ে আসা। আমাদের সংস্থা প্রতিবছর এইমহতী কার্যক্রম করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ
তিনি আরও বলেন,মানবাধিকার সাংবাদিক সমাজ কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ সেই দায়িত্ববেরই বহিঃপ্রকাশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ জুবায়েরুল ইসলাম । তিনি বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।মানবাধিকার সাংবাদিকদের সংগঠন যখন মানবিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা রাখে, তখন তা সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও অনুপ্রাণিত করে। রমজান আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার বন্ধনে আবদ্ধ করে।”তিনি বলেন, সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান এবং অতিথিদেরকে কষ্ট করে আসার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার কো-অর্ডিনেটর ও সমাজসেবক ফারুক আহমদ মজুমদার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো:খুরশিদ আলম ভাইস চেয়ারম্যান অত্র সংস্থা ও নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক অগ্নিকন্ঠ, দেলোয়ার হোসেন ভুইয়া, নির্বাহী পরিচালক ও সম্পাদক সাপ্তাহিক জনতার দলিল, নগর বিষয়ক সম্পাদক শেখ আলী আব্বাস,এস নাজমুল হোসাইন শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, জহির সিকদার সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন,মোরশেদ আলম সম্পাদক দৈনিক অগ্নিশিখা , অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন “মানবাধিকার- সাংবাদিক সমাজ শুধু কাগজ-কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়, বাস্তবিক অর্থেও তাদের মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারে।
আজকের এই আয়োজন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রমজানের শিক্ষাকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।” অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুস সালাম, সহতথ্য সমন্বয়কারী মুজিবুর রহমান, উত্তরের আহ্বায়ক রাশি আক্তার। গুলশান থানা কমিটির মাহফুজুর রহমান মন্টু, আমিনুল ইসলাম, এমআরআই ইমন খান, আবুশাহা বাবুল,আশরাফুল আলম এবং ভাটারা থানা কমিটির মেলভিন রেমা, শাহজাহান আলী সাগর, শ্যামল রেমা রেজাউল হক ও অন্যান্য কমিটির সদস্যবৃন্দ । এছাড়াও মোঃ রাসেল এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: দুলাল মিয়া চেয়ারম্যান এশিয়া ছিন্নমূলবাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়ায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জনগণের সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন। উপস্থিত সকলেই আমিন-আমিন ধ্বনিতে অংশ নেন। ইফতার বিতরণ শেষে অতিথি ও রোজাদাররা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। খেজুর, ফলমূল, পানি, শরবত ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আয়োজকদের আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। বৃহত্তর মতিঝিল এলাকার সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে এক আন্তরিক, ধর্মীয় ও মানবিক আবহে। রমজানের পবিত্রতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
Leave a Reply