শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
দিল্লির প্রতিবাদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের অন্যান্য শহরেও। বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই, চণ্ডীগড়, কলকাতা, পাটনা ও হায়দরাবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে মিছিল শুরুর আগেই অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানেও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নজরদারি ও আটকের ঘটনা ঘটে। সেখানে এক নারী আন্দোলনকারীকে আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চেন্নাইয়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) ও অল ইন্ডিয়া ইয়ুথ ফেডারেশনের (এআইওয়াইএফ) কর্মীরা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। চণ্ডীগড়ে আম আদমি পার্টি (আপ) ও অন্যান্য দলের পক্ষ থেকে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। কলকাতার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংহতি মিছিলের ডাক দিয়েছেন। এ ছাড়া পাটনা ও হায়দরাবাদেও ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। দিল্লির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলোও নিন্দা জানিয়েছে।
ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) ডাকা বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে তীব্র পুলিশি পদক্ষেপ ও অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই বিক্ষোভে যোগ দিতে আসার পর থেকে একে একে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দিল্লিতে চলমান এই ধরপাকড়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন এবং মানিক সরকার।
এদিকে দিল্লি বিমানবন্দরে প্লেন অবতরণের মাত্র কয়েক মিনিট পরেই সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং তার সহ-আহবায়কদের বিমান থেকেই আটক করা হয়। বর্তমানে আটক থাকা অবস্থায় থানায় অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
বিক্ষোভ ঘিরে আটক সবাইকে আগামীকালের মধ্যে মুক্তি দেওয়া না হলে অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক আজ এক এক্স বার্তায় বলেছেন, গতকাল যখন আমি আজকের বিক্ষোভে ঐক্য ও শান্তির জন্য আবেদন জানিয়ে একটি বার্তা পোস্ট করেছিলাম, তখন কল্পনাও করতে পারিনি যে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থার মধ্যে পড়বে। লাদাখের এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী আরও বলেন, আন্দোলনটি পরিচালনার জন্য এত নেতা দেখে খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু এখন জানতে পেরেছি যে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি আশা করি, গ্রেপ্তার সবাইকে শিগগিরই মুক্তি দেওয়া হবে। আগামীকালের মধ্যে তাদের মুক্তি দেওয়া না হলে আমি অনশন বা পদযাত্রা কর্মসূচির কথা বিবেচনা করতে বাধ্য হবো।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘মোদি, আপনি যা খুশি করুন। আমরা পিছু হটব না।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করা এক ভিডিওবার্তায় এ কথা বলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান রক্ষা এবং জনগণের কণ্ঠস্বর সুরক্ষিত রাখতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ভিডিওবার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে লড়াই করছি।
তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে ভালোভাবে জানি। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত, জ্ঞানেশ কুমার ও অজিত ডোভালের মতো ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে চাপে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ঘিরে ধরছি।’ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার চাইলে ১০ হাজার, ২০ হাজার কিংবা ৫০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করতে পারে। সব নেতা ও তরুণকে গ্রেপ্তার করলেও পিছু হটব না। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গ্রেপ্তার করুন, সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে ধরছি এবং পিছু হটব না।
Leave a Reply