বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তনের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেছেন ফিল সিমন্স। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সাইফ হাসানের পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো নয়। ওপেনিং জুটিকে “স্থির” উল্লেখ করে সিমন্স বলেন, আগের ম্যাচগুলোতে এই জুটি দলকে শক্ত ভিত্তি এনে দিয়েছে, যা দলের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জাতীয় দলের হেড কোচ সিমন্স সাইফের ফর্মে ফেরার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সাম্প্রতিক একটি অনুশীলন ম্যাচে তার দারুণ ইনিংসের কথা উল্লেখ করেন, “আমার মনে হয় আমরা এখন কিছুটা স্থির হয়েছি, কারণ শেষ সিরিজে আমাদের ভালো জুটি ছিল।
এরপর এখানে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচেও সাইফ দেখিয়েছে- সে আমাদের প্রত্যাশিত ছন্দে ফিরছে। তাই আপাতত আমরা এই জুটিতেই থাকছি।’ সাইফের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তানজিদ হাসান তামিম দারুণ ফর্মে আছেন। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে তামিম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রথম ওয়ানডেতে তামিম ৬৭ রান এবং সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১০৭ রানের ইনিসের মাধ্যমে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ইনিংসে সাইফ করেন মাত্র ৪, ১২ ও ৩৬। তবে সম্প্রতি একটি অনুশীলন ম্যাচে ১৩৩ বলে ১৩৮ রান করে তিনি ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সাইফের ওপর আস্থা রাখলেও সৌম্য সরকারের দ্রুত দলে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নাকচ করে দিয়েছেন সিমন্স। গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ৯১ রান করেছিলেন সৌম্য। সিমন্স জানান, নিয়মিত ম্যাচ না খেলার কারণেই সৌম্য পিছিয়ে পড়েছেন, যেখানে অন্যরা সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার ভাবনা আগের মতোই। সৌম্য দারুণ খেলোয়াড়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সে ভালো খেলেছিল, যেমন আপনি বললেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর, বিপিএল চলাকালে এবং বিসিএল শুরুর আগে সে অনেক ক্রিকেট মিস করেছে। তাই আমাদের ওই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অন্যরা ভালো করায় সে দলে জায়গা পায়নি। তাকে আবার দলে ফিরতে হলে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।”
বাংলাদেশ কোচ ঘরোয়া ক্রিকেটে মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের নির্দিষ্ট পজিশনে না খেলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আফিফ হোসেন, লিটন দাস, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এবং মেহেদী হাসান মিরাজের মতো খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায়ই ওপরে ব্যাট করেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসে ভূমিকা বদলাতে সমস্যা তৈরি করে। সিমন্স বলেন, “দেখা যাচ্ছে, আমাদের প্রায় সব ব্যাটারই ঘরোয়া ক্রিকেটে টপ অর্ডারে ব্যাট করে। মিরাজ, অঙ্কন- সবার ক্ষেত্রেই একই বিষয়। কিন্তু জাতীয় দলে এসে তাদের ভিন্ন ভূমিকায় মানিয়ে নিতে হয়। এখন পর্যন্ত খেলোয়াড়রা এসব পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার জন্য খুব চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি বড় দিকই হলো প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নিতে হবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে যা করতে অভ্যস্ত তার ওপর নয়।’’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি সিরিজ জয়ের পরও সিমন্স মনে করেন, দলের সব বিভাগেই উন্নতির সুযোগ রয়েছে, “আমাদের খেলার প্রতিটি দিকেই উন্নতির সুযোগ আছে, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। টপ অর্ডার থেকে শুরু করে পাঁচ, ছয়, সাত, আট নম্বর পর্যন্ত- সব জায়গায় উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে উন্নতির জন্য কাজ করছি।’
Leave a Reply