সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
আফ্রিকার সংঘাতকবলিত বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আন্তরিক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সদস্যরা। দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে বিপর্যস্ত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সিয়েরা লিওন থেকে হাইতি এবং দক্ষিণ সুদান থেকে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)- দশকের পর দশক ধরে জাতিসংঘের নীল হেলমেটধারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
জাতিসংঘ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা করে বলেছে, ‘আপনারা আপনাদের জাতির জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।’ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতিসংঘের নীল হেলমেটের অধীনে দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বের সঙ্গে মানবিক সেবার সমন্বয় ঘটিয়েছেন।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশি সদস্যরা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, পুলিশি দায়িত্ব, সামরিক অভিযান, চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। তারা প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, নিরাপত্তা টহল পরিচালনা করেছেন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছেন।
জাতিসংঘের পতাকার নিচে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বহন করে তারা সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে নিরাপত্তা অভিযান, চিকিৎসাসেবা, প্রকৌশল প্রকল্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ বিতরণের মাধ্যমে সংঘাতকবলিত এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। শান্তিরক্ষা মিশনের দায়িত্বের অংশ হিসেবে তারা এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসেই দক্ষিণ সুদানের ওয়াউ শহরে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা ৪০০ জনেরও বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেন।
আফ্রিকার দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশ দক্ষিণ সুদানে প্রায় চার দশক ধরে সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায় চলেছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশনে (ইউএনএমআইএসএস) দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের কাছ থেকে চিকিৎসা ও ওষুধ নিতে রোগীদের দীর্ঘ সারি অপেক্ষা করছিল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ওয়াউ শহরে আরেকটি চিকিৎসা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৩০০ জনেরও বেশি স্থানীয় বাসিন্দাকে চিকিৎসা দেন।
বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রমাণ করে যে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম কেবল নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি মানুষের আস্থা জোরদার করাও সম্ভব হচ্ছে।
Leave a Reply