শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি তীব্র জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে, যার ফলে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে নগর জীবনে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে শেষ ভোর রাতের মাত্র ৬ ঘণ্টাতেই হয়েছে ৭৬ মিলিমিটার। এই আকস্মিক ও রেকর্ডভাঙা অতিবৃষ্টির কারণে বনানী, বিজয় সরণি, কারওয়ার বাজার, শান্তিনগর, ধানমন্ডি-২৭, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড, মতিঝিল, মোহাম্মদপুর, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং মিরপুরের শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও কালশীসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়।
তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে মতিঝিল ও নিউমার্কেটের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকার বহু দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাস্তা ও হল প্রাঙ্গণ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কয়েক হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েন, যার জেরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সাংবাদিকতাসহ বেশ কয়েকটি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এছাড়াও মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ ঢাকার শীর্ষস্থানীয় বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষাসমূহ স্থগিত ঘোষণা করতে হয়েছে।
ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে গণপরিবহনের তীব্র সংকট এবং রাস্তায় জমে থাকা পানিতে শত শত সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ার ঘটনা। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রিকশা ও অটোরিকশাগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় অনেক চাকরিজীবী নোংরা ও দূষিত পানি মাড়িয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হতে বাধ্য হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ বেলা ১১টার পর ট্রাফিক পুলিশের গুলশান বিভাগ থেকে চালক ও পথচারীদের অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার করার জন্য কড়া আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র্যাম্পের নিচের অংশ, খিলক্ষেত ও ঢাকা গেট এলাকায় ব্যাপক জলজট তৈরি হওয়ায় চালকদের ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে নেমেছে দুই সিটি কর্পোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বিশেষ ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ভোর থেকেই কাজ করছে এবং দ্রুত পানি সরাতে কমলাপুরের দুটি ও ধোলাইখালের একটি হাই-ক্যাপাসিটি পাম্প সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, ওয়াসা ও ডিপিডিসির রাস্তা খননের ফলে তৈরি হওয়া গর্ত এবং ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তারের বিষয়ে নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সাগরে নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামীকাল সোমবারও দিনভর এই থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
Leave a Reply