1. admin@thedailyagnikontho.com : admin :
বহুমুখী আমদানি ও পর্যাপ্ত মজুতে জ্বালানি খাতে সংকটের আশঙ্কা নেই - দৈনিক অগ্নিকন্ঠ

রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ :
দেশের জনগণের অর্থ, বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সম্ভাবনা: তেলের দাম ৮০ ডলারের নিচে সিলেটে ফুলের পাপড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন চা শ্রমিকরা ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজের মাধ্যমে জি-৭ সম্মেলনের সমাপ্তি টানছেন মাখোঁ ইরাককে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল নরওয়ে শিশু শ্রমিক নিয়োগের দায়ে ফেনীর কোয়ালিটি জুট মিলকে সতর্কতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আটক সম্পদ মুক্তি ছাড়া কোনো চুক্তি নয়: ইরান বাজেটে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব খাল খনন ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র সেই দিন ফিরিয়ে আনবে: পানিসম্পদ মন্ত্রীর
বহুমুখী আমদানি ও পর্যাপ্ত মজুতে জ্বালানি খাতে সংকটের আশঙ্কা নেই

বহুমুখী আমদানি ও পর্যাপ্ত মজুতে জ্বালানি খাতে সংকটের আশঙ্কা নেই

বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে আমেরিকা-ইসরাইল এবং ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হরমুজ প্রণালীর সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে ইতোমধ্যে বিকল্প রুট ও উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত মজুত, বহুমুখী আমদানি উৎস এবং সরকারের কঠোর নজরদারির ফলে জ্বালানি খাতে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক পরিমাণে রয়েছে ডিজেল যা ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন।

জ্বালানি ব্যবহারে যা মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। এছাড়া অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েলও পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) জানিয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে লোড করা হবে। পাশাপাশি ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে থাকা আরও ১ লাখ টন তেল বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে অবস্থান করছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজে মোট ২ লাখ টন ক্রুড অয়েল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ভারত থেকেও পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি জোরদার করা হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ৭ হাজার টন ডিজেল আনা হয়েছে। এর আগে গত ১১ ও ২৩ মার্চ দু’দফায় ৫ হাজার করে ১০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়। যা তিন দফায় আমদানির পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার টন। এছাড়া, গত ১ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে ‘পিভিটি সোলানা’ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তত্ত্বাবধানে এই আমদানি সম্পন্ন হয়।

বিপিসি জানিয়েছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সিঙ্গাপুর থেকে আরও দু’টি জাহাজ আসবে। এর মধ্যে ‘ইউয়ান জিং হে’ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ‘সেন্ট্রাল স্টার’ ২৫ হাজার টন অকটেন বহন করবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে সরকার। অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ভিজিলেন্স টিম গঠন, ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন এবং অবৈধ মজুতের সঠিক তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ বেশি। বৈশ্বিক সংকটেও ভোক্তার ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। গত ৩১ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা নির্ধারণ করে পূর্বের মূল্য বহাল রাখা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সার্বিক বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (মুখপাত্র) মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকার বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক এবং কিছু অংশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎস থেকে জ্বালানি কেনা পরিকল্পনা হাতে নিয়ে থাকে।

তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নতুন নতুন উৎস থেকে তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশই এখন বিকল্প উৎস খুঁজছে, আমরাও সেই প্রক্রিয়ায় আছি। যেখানে আমরা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখান থেকেই আমদানি করা হচ্ছে। জ্বালানির ঘাটতি নেই জানিয়ে মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা জনগণকে বিনীতভাবে জানাতে চাই যে দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ক্রয় করুন। একই সঙ্গে অনুরোধ থাকবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমরাও যেন জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2025 thedailyagnikontho.com