1. admin@thedailyagnikontho.com : admin :
ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কে রপ্তানি আদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হবে: বিশেষজ্ঞরা - দৈনিক অগ্নিকন্ঠ

শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ :
প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ ক্রাউন প্রিন্স সালমানের গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিতের দাবি জানালে সরকার বলছে হঠকারিতা: নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই দেশের মানুষের ঐক্যের ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী বিগত ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তহীন পথ চলছে সরকার: মাহদী আমিন হারানো বিজ্ঞপ্তি সরকারি দপ্তর-সংস্থায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালু করা হবে: প্রতিমন্ত্রী কুষ্টিয়া এলজিইডিতে উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করতে তৎপরতা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানে উন্নতমানের এক লিটার পেট্রোল বিক্রি হবে প্রায় ৯ লাখ রিয়ালে
ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কে রপ্তানি আদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হবে: বিশেষজ্ঞরা

ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কে রপ্তানি আদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হবে: বিশেষজ্ঞরা

ভারতীয় রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে রপ্তানি আদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হবে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।তাদের মতে, স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং রপ্তানিকারকরা সুযোগগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ কয়েক বিলিয়ন ডলার রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হবে।গত ৩১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ১৯ শতাংশ, বাংলাদেশের পণ্যে ২০ শতাংশ এবং ভারতের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ‘জরিমানা’ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ভারতীয় পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ।অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের উচ্চ শুল্কের ফলে ভারতীর রপ্তানিকারকরা একাধিক খাতে প্রতিযোগিতা হারাবে। যার মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত দ্রব্য, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি এবং আসবাবপত্র। এগুলো বাংলাদেশের শীর্ষ রপ্তানি পণ্য হওয়ায় ভারত থেকে সরে আসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্ডারগুলো বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা পেতে পারেন।বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাসসকে বলেন, ‘ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে রপ্তানি অর্ডার অন্য দেশে স্থানান্তর হবে। এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, চীন ও মিয়ানমারের মতো দেশে।

যেখানে বাংলাদেশ থাকবে প্রথম সারিতে।তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে, তবে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। তবে এজন্য বন্দর দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমিক অস্থিরতা নিরসন জরুরি।’ড. জাহিদ উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কহার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা দেশের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করেছে। আগামী ছয় মাসে এ কাঠামো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘যদিও কিছু অনিশ্চয়তা আছে, তবে এগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করতে হবে। ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু কারখানা চালু হচ্ছে, যা থেকে ইতিবাচক ফল আসবে বলে আশা করছি।

খ্যাতনামা এ অর্থনীতিবিদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অর্ডার বাড়লে বন্দরের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জটিলতা সমাধান ও আইসিডিতে জট নিরসন জরুরি।তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে। তবে শর্ত হলো-অর্ডারগুলো সময়মতো পাঠাতে হবে এবং আগামীতে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা বা অস্থিরতা যেন না ঘটে।ড. জাহিদ আরও বলেন, সময়ই বলে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের এই তুলনামূলক সুবিধার কারণে আগামী কয়েক মাসে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি বাড়াতে পারবে কি না।

ভারতীয় রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে জাতীয় সংবাদ সংস্থার সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘নিশ্চয়ই এটি বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি করবে, তবে দেশীয় রপ্তানিকারকদের এ ধরনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।’তিনি বলেন, ভারতের কাছ থেকে কিছু রপ্তানি আদেশ বাংলাদেশে চলে আসবে, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ারও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ তবে এর জন্য জরুরি সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং পাশাপাশি ‘লিড টাইম’ আরও কমাতে হবে। সব দিক থেকেই সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং আশা করি আমরা এসব সুযোগকে কাজে লাগাতে পারব।

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, পণ্য পরিবহনে নির্বিঘ্নতা নিশ্চিত করা, জ্বালানি সংকট সমাধান এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য কিছু তুলনামূলক সুবিধা বয়ে আনবে।তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি থেকে সুবিধা নিতে হলে ব্যাংকিং খাতের সমস্যার সমাধান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, এনবিআর বিশেষ করে কাস্টমস বিভাগের জটিলতা নিরসন জরুরি।

তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারকে শিল্প খাত ঘিরে থাকা নানা চ্যালেঞ্জ বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে, তবেই এ শুল্ক আরোপ থেকে সুবিধা নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নীতিমালা ও সার্কুলারগুলোকে সুসংহত করা, ইডিএফ সুবিধা পুনর্বহাল করা, সুদের হার যৌক্তিক করা, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করা, কাস্টমস বিভাগের জটিলতা নিরসন করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পরামর্শ দেন।তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো নিশ্চিত করতে পারলে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি ৬ বিলিয়ন ডলার। যেখানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৮.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে।অন্যদিকে, সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের একক বৃহত্তম রপ্তানি অংশীদার হিসেবে গণ্য করে ভারত। ২০২৫ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারতের মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৩৪ বিলিয়ন ডলার।যার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বা ৮৬.৫১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2025 thedailyagnikontho.com